[] সহিহ আত-তিরমিজি এর থেকে হাদিস সমূহ []


   [] সহিহ আত-তিরমিজি 
এর থেকে হাদিস সমূহ সংগৃহীত []


৬৩৭।
আমর ইবনু শুআইব (রাহঃ) হতে পর্যায়ক্রমে তার পিতা ও দাদার সূত্রে বর্ণিত আছে, দুইজন মহিলা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে আসে। তাদের দুজনের হাতে স্বর্ণের বালা ছিল। তিনি। তাদের উভয়কে প্রশ্ন করেনঃ তােমরা কি এর যাকাত প্রদান কর? তারা। বলল, না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদেরকে বললেনঃ তােমরা কি এটা পছন্দ কর যে, আল্লাহ তা'আলা (কিয়ামতের দিন) তােমাদের আগুনের দু'টি বালা পরিয়ে দিবেন? তারা বলল, না। তিনি বললেনঃ তবে তােমরা এর যাকাত প্রদান কর। - অন্য শব্দে হাদীসটি হাসান, ইরওয়া (৩/২৯৬), মিশকাত (১৮০৯), সহীহ আবু দাউদ (১৩৯৬) আবু ঈসা বলেন, মুসান্না ইবনুস সাব্বাহ ও ইবনু লাহীআও আমর ইবনু শুআইবের নিকট হতে উক্ত হাদীস বর্ণনা করেছেন। কিন্তু তাঁরা উভয়ে হাদীস শাস্ত্রে যঈফ। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট হতে এ ব্যাপারে কোন হাদীস সহীহ সনদে বর্ণিত হয়নি।




৬৩৮।
মুআয (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সজি অর্থাৎ তরিতরকারির উপর যাকাত ধার্য প্রসঙ্গে জানতে চেয়ে চিঠি লিখেন। তিনি (রাসূলুল্লাহু সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেনঃ এতে যাকাত ধার্য হবে না। - সহীহ, ইরওয়া (৩/২৭৯) আবু ঈসা এ হাদীসের সনদ সহীহ নয় বলেছেন। সহীহ সনদসূত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট হতে এ অনুচ্ছেদে কোন কিছু বর্ণিত হয়নি। এ হাদীসটি মূসা ইবনু তালহা তাঁর সনদসূত্রে মুরসালভাবে বর্ণনা করেছেন। আলিমগণও এ হাদীসের উপর আমল করেছেন। তাঁরা বলেন, শাক-সজি ও তরিতরকারির যাকাত আদায় করতে হবে না। আবু ঈসা বলেন, হাসান হলেন উমারার ছেলে। তিনি হাদীস বিশারদদের দৃষ্টিতে যঈফ বর্ণনাকারী। শুবা প্রমুখ তাকে দুর্বল বলেছেন। তাকে আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারাক সম্পূর্ণরূপে পরিত্যাগ করেছেন।




৬৩৯।
আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে যমী ঝর্ণা ও বৃষ্টির পানির সাহায্যে সিক্ত হয় সে যমীতে উশর ধার্য হবে। সেচের সাহায্যে যে যমী সিক্ত হয় তাতে অর্ধেক উশর ধার্য হবে। - পরবর্তী হাদীসের সহায়তায় হাদীসটি সহীহ আনাস ইবনু মালিক, ইবনু উমার ও জাবির (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা বলেন, এই হাদীসটি সুলাইমান ইবনু ইয়াসার ও বুসর ইবনু সাঈদ মুরসালভাবে বর্ণনা করেছেন। পূর্ববর্তী বর্ণনার তুলনায় সনদের বিচারে এই (মুরসাল) বর্ণনাটি বেশি সহীহ। ইবনু উমার (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি | ওয়াসাল্লামের সহীহ হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসের উপরই সকল | ফিকহবিদ আমল করেন।



৬৫০।
আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি | বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মানুষের নিকটে যে লােক হাত পাতে (সাহায্য প্রার্থনা করে) অথচ তার এটা হতে বাঁচার মত সম্বল আছে, সে লােক কিয়ামত দিবসে তার মুখমণ্ডলে এই সাহায্য চাওয়ার ক্ষত নিয়ে আল্লাহ্ তা'আলার সামনে উপস্থিত হবে। প্রশ্ন করা হল, হে আল্লাহর রাসূল! কি পরিমাণ সম্পদ থাকলে সে তােক অন্য কারাে নিকটে হাত পাততে পারবে না? তিনি বললেনঃ পঞ্চাশ দিরহাম বা সমমূল্যের স্বর্ণ । - সহীহ, সহীহ আবু দাউদ (১৪৩৮), মিশকাত (১৮৪৭) আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা ইবনু মাসউদ (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। এ হাদীসের পরিপ্রেক্ষিতে শুবা হাকীম ইবনু জুবাইরের সমালেচনা করেছেন।




৬৫১।
মাহমূদ ইবনু গাইলান ইয়াহইয়া ইবনু আ-দাম হতে তিনি সুফিয়ান হতে, তিনি হাকীম ইবনু জুবাইর হতে..... এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। শুবার শাগরিদ আব্দুল্লাহ ইবনু উসমান বলেছেন, যদি হাকীম ব্যতীত অন্য কেউ হাদীসটি বর্ণনা করত একথা শুনে সুফিয়ান তাকে বললঃ শুবার কি হাকীম হতে বর্ণনা করা উচিত নয়? তিনি বললেন, হ্যা, সুফিয়ান বলেন, আমি যুবাইদকে উহা মুহাম্মাদ ইবনু আব্দুর রাহমান হতে বর্ণনা করতে শুনেছি। | এ হাদীস অনুযায়ী আমাদের কিছু সঙ্গী আমল করেছেন। সুফিয়ান সাওরী, আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারাক, আহমাদ ও ইসহাক বলেছেন, পঞ্চাশ দিরহাম কোন লােকের মালিকানায় থাকলে সে লােকের জন্য যাকাতের মাল খাওয়া বৈধ নয়। অন্য একদল আলিম এ হাদীস অনুযায়ী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেননি। তারা এ সুযােগটাকে আরাে ব্যাপক রেখেছেন। তাঁরা বলেছেন, পঞ্চাশ দিরহাম থাকার পরও কোন ব্যক্তি যদি প্রয়ােজনে যাকাত নেয়ার মুখাপেক্ষী হয় তবে সেটা নেয়া তার জন্য বৈধ। ইমাম শাফিঈ, ও অন্যান্য ফিহবিদের অনুরূপ মত।




৬৫২।
আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নাবী সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ অবস্থাপন্ন সচ্ছল ও সুস্থ-সবল লােকের জন্য যাকাত নেয়া বৈধ নয়। - সহীহ, মিশকাত (১৪৪৪), ইরওয়া (৮৭৭) আবু হুরাইরা, হুবশী ইবনু জুনাদা ও কাবীসা ইবনু মুখারিক (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা আব্দুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। এ হাদীসটি শুবাও সা'দ ইবনু ইবরাহীম হতে উল্লেখিত সনদে বর্ণনা করেছেন। কিন্তু এ হাদীসকে তিনি মারফুহিসেবে বর্ণনা করেননি। অন্য একটি বর্ণনায় রয়েছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “অবস্থাপন্ন সচ্ছল লােক এবং শক্তিমান ও সুস্থ দেহের অধিকারী লােকের পক্ষে অন্য কারাে নিকটে হাত পাতা জায়িয নয়।” | এ প্রসঙ্গে আলিমগণের অভিমত এটাই যে, যদি শক্তিমান সুঠাম দেহের অধিকারী লােক সাহায্যের মুখাপেক্ষী হয় এবং যদি তার নূন্যতম প্রয়ােজন মেটানাের মত সম্বল না থাকে তবে সে লােককে যাকাত প্রদান করলে যাকাত আদায় হয়ে যাবে। কিছু মনীষীর মতে, ভিক্ষাবৃত্তি প্রসঙ্গে এ হাদীসটি বলা হয়েছে (যাকাত গ্রহণ জায়িয হওয়া বা না হওয়া প্রসঙ্গে নয়)।




৬৫৫।
আবু সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, এক লােক রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে ফল কিনে ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে অনেক ঋণে জর্জরিত হয়ে পড়ে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (লােকদের) বললেনঃ একে তােমরা দান-খয়রাত কর। লােকেরা তাকে দান-খয়রাত করল, কিন্তু তা ঋণ পরিশােধের সমপরিমাণ হল না। তারপর ঋণগ্রস্ত লােকের পাওনাদারদের রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ এখন যা পাচ্ছ নিয়ে নাও, (আপাতত) এরচেয়ে বেশি আর পাবে না। | - সহীহ, ইবনু মাজাহ (২৩৫৬), মুসলিম - আইশা, জুয়াইরিয়া ও আনাস (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা আবু সাঈদ (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে হাসান সহীহ্ বলেছেন।




৬৫৮।
সালমান ইবনু আমির (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যখন তােমাদের কোন লােক ইফতার করে, সে যেন খেজুর দিয়ে ইফতার করে। কেননা, এতে। বারকাত আছে। যদি সে খেজুর না পায় তবে যেন পানি দিয়ে ইফতার করে। কেননা, পানি হল পবিত্র। - যঈফ, সঠিক হল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কর্ম। (নির্দেশ নয়), ইবনু মাজাহ (১৬৯৯)। তিনি আরাে বলেছেনঃ গরীবদের দান-খয়রাত করা শুধু দান বলেই গণ্য হয়; কিন্তু আত্মীয়-স্বজনকে দান করলে তা দানও হয় এবং আত্মীয়তা রক্ষা করা হয়। - সহীহ, ইবনু মাজাহ (১৮৪৪) আবদুল্লাহ ইবনু মাসঊদের স্ত্রী যাইনাব, জাবির ও আবু হুরাইরা। (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান বলেছেন। বর্ণনাকারী আর-রাবাব হলেন সুলাই’এর কন্যা উম্মুর রায়িহ। এ ভাবেই সুফিয়ান সাওরী বর্ণনা করেছেন আসিম হতে, তিনি হাফসা বিনতু সীরীন হতে, তিনি আর-রাবাব হতে। আর শুবা বর্ণনা করেছেন আসিম হতে, তিনি হাফসা বিনতু সীরীন হতে, তিনি সালমান ইবনু আমির হতে। শুবা আর-রাবাব-এর উল্লেখ করেন নাই। এর মধ্যে সুফিয়ান সাওরী ও ইবনু উআইনার বর্ণনাটি বেশি সহীহ। ইবনু আউন এবং হিশাম ইবনু হাসসান বর্ণনা করেছেন হাফসা বিনতু সীরীন হতে, তিনি আর-রাবাব হতে, তিনি সালমান ইবনু আমির হতে।




৬৬৬।
সাফওয়ান ইবনু উমাইয়া (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, হুনাইনের যুদ্ধের দিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে কিছু (গানীমাতের) মাল দান করেন। তিনি আমার দৃষ্টিতে সৃষ্টির মধ্যে সবচেয়ে ঘৃণ্য দুশমন ছিলেন। আমাকে তিনি দান করতে থাকলেন। যার ফলে তিনিই আমার নিকটে সৃষ্টিকুলের মাঝে সবচেয়ে পছন্দনীয় লােক হয়ে গেলেন। - সহীহ, মুসলিম আবু সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেন, সাফওয়ানের হাদীসটি মা’মার এবং অন্যরা বর্ণনা করেছেন যুহরী হতে, তিনি সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িব হতে তিনি সাফওয়ান ইবনু উমাইয়্যা হতে, তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে দান করেছেন...... এই হাদীসটি অধিক সহীহ্।। ‘মুয়াল্লাফাতুল কুবদের দান করার ব্যাপারে আলিমদের মাঝে মতবিরােধ আছে। বেশির ভাগ আলিমদের মতে, তাদেরকে দান করা যাবে না। তারা বলেন, এ ধরণের একটা দল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে ছিল যাদেরকে তিনি ইসলামের দিকে আকৃষ্ট করতে চেয়েছেন। তারপর তারা ইসলাম মেনে নেয়। এ ধরণের লােকদেরকে বর্তমানে যাকাত হতে দান করার প্রয়ােজন নেই। সুফিয়ান সাওরী, কূফাবাসীগণ, আহমাদ ও ইসহাক এই মত ব্যক্ত করেন। আরেক দল আলিম বলেছেন, যদি এ ধরণের লােক বর্তমানেও থেকে থাকে এবং ইমাম যদি তাদেরকে ইসলামের দিকে আকৃষ্ট করার প্রয়ােজন মনে করেন তাহলে তাদেরকে কিছু দান করলে তা জায়িয হবে। ইমাম শাফিঈ এই মত প্রকাশ করেছেন।




 ৬৬৭।
আবদুল্লাহ ইবনু বুরাইদা (রাঃ) হতে তার পিতার সূত্রে বর্ণিত আছে, তিনি (বুরাইদা) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকটে আমি বসা ছিলাম। এমন সময় তাঁর নিকট এক মহিলা এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমি আমার মাকে একটি দাসী দান করেছিলাম। তিনি মারা গেছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ তুমি সাওয়াবের অধিকারী হয়ে গেছ এবং উত্তরাধিকার স্বত্ত্ব দাসীটি তােমাকে ফেরত দিয়েছে। সে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! এক মাসের রােযা আদায় করা তার বাকী আছে, তার পক্ষ হতে আমি কি রােযা আদায় করতে পারি? তিনি বললেনঃ তার পক্ষে তুমি রােযা আদায় কর। সে বলল, হে আল্লাহ্র রাসূল! কখনও তিনি হাজ্জ করেননি। তার পক্ষ হতে আমি কি হাজ্জ আদায় করতে পারি? তিনি বলেনঃ হ্যা, তার জন্য তুমি হাজ্জ আদায় কর। | - সহীহ, ইবনু মাজাহ (১৭৫৯, ২৩৯৪), মুসলিম | আবু ঈসা এ হাদীসটিকে হাসান সহীহ বলেছেন। উপরােক্ত সূত্র ব্যতীত এটি বুরাইদার হাদীস হিসাবে জানা যায়নি। হাদীস বিশারদদের মতে আবদুল্লাহ ইবনু আতা সিকাহ (নির্ভরযােগ্য) বর্ণনাকারী। এ হাদীস অনুযায়ী বেশির ভাগ আলিম আমল করার মত ব্যক্ত করেছেন। কোন লােক কিছু সাদকা করল এবং পরে আবার সে তার উত্তরাধিকারী হল, এক্ষেত্রে তার জন্য ঐ সম্পদ বৈধ। অপর একদল মনীষী বলেনঃ সাদকা বা দান-খয়রাত এমন একটি জিনিস যা শুধুমাত্র আল্লাহ তা'আলার জন্য। খরচ করা হয়। এরকম সম্পদ ওয়ারিস সূত্রে প্রাপ্ত হলে উচিত হচ্ছে ঐ জিনিস পুনরায় সে পথে খরচ করে দেয়া। সুফিয়ান সাওরী ও যুহাইর ইবনু মুআবিয়া-আবদুল্লাহ ইবনু আতার সূত্রে উল্লেখিত হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।




 ৬৭৩।
আবু সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের মাঝে থাকা অবস্থায় আমরা (মাথাপিছু) এক সা' খাবার অথবা এক সা' যব অথবা এক সা' খেজুর অথবা এক সা' কিশমিশ অথবা এক সা' পনির (ফি হিসাবে) দান করতাম। আমরা এভাবেই দিয়ে আসছিলাম। কিন্তু মুআবিয়া (রাঃ) মাদীনায় এসে তিনি বিভিন্ন বিষয়ে লােকদের সাথে আলােচনা করলেন। তার আলােচনার মধ্যে একটি ছিলঃ আমি দেখছি, সিরিয়ার দুই মুদ্দ গম এক সা' খেজুরের সমান । বর্ণনাকারী বলেন, | তারপর লােকেরা এটাই অনুসরণ করতে লাগলাে। আবু সাঈদ (রাঃ) বলেন, কিন্তু আমি পূর্বের মতই দিতে থাকব। - সহীহ, ইবনু মাজাহ (১৮২৯), বুখারী, মুসলিম আবু ঈসা হাদীসটিকে হাসান সহীহ বলেছেন। এ হাদীসের অনুসরণ করে একদল মনীষী বলেন, প্রতিটি জিনিস এক সা’ পরিমাণ হতে হবে। একই রকম মত প্রকাশ করেছেন ইমাম শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একদল বিশেষজ্ঞ সাহাবা ও অন্যান্যরাও বলেছেন, এক সা’ পরিমাণই প্রতিটি জিনিস হতে হবে কিন্তু গম অর্ধ সা’ পরিমাণ দিলেই যথেষ্ট। সুফিয়ান সাওরী, ইবনুল মুবারাক ও কুফাবাসীদের মত এটাই যে, গম অর্ধেক সা’ পরিমাণ দিলেই চলবে।




 ৬৭৯।
আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, উমার (রাঃ)-কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আমরা বছরের শুরুতেই আব্বাসের এই বছরের যাকাত নিয়ে নিয়েছি। - হাসান। ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেন, হাজ্জাজ ইবনু দীনার হতে ইসরাঈল কর্তৃক বর্ণিত অগ্রিম যাকাত আদায়ের হাদীসটি অমরা এই সূত্র ব্যতীত অবগত নই। (তিরমিযী বলেন) আমার মতে, হাজ্জাজ হতে ইসমাঈল ইবনু যাকারিয়া বর্ণিত হাদীসটি হাজাজ ইবনু দীনার হতে ইসরাঈলের বর্ণিত হাদীসের চেয়ে বেশি সহীহ। এটি হাকাম ইবনু উতাইবাহ হতে মুরসাল হিসেবেও বর্ণিত আছে। আলিমদের মাঝে অগ্রিম যাকাত আদায় করার ব্যাপারে দ্বিমত আছে। একদল মনীষী অগ্রিম যাকাত আদায় করা উচিৎ নয় বলে মত ব্যক্ত করেছেন। সুফিয়ান সাওরী এই মতের সমর্থন করেছেন। তিনি বলেছেন, এটা না করাই আমার মতে উত্তম। বেশিরভাগ মনীষী অগ্রিম যাকাত আদায় করলে তা জায়িয হওয়ার কথা বলেছেন। এ মতের প্রবক্তা হচ্ছেন শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক।




 ৬৮০।
আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আমি বলতে শুনেছিঃ তােমাদের মাঝে কোন লােক সকালে গিয়ে কাঠ সংগ্রহ করে তা পিঠে করে বহন করে এনে তা হতে প্রাপ্ত উপার্জন হতে সে দান-খয়রাত করল এবং লােকদের নিকটে হাত পাতা হতে বিরত থাকল। তার জন্য এটা অনেক উত্তম অন্যের নিকটে সাহায্য প্রার্থনা করা হতে। আর অন্য লােকের | নিকটে চাইলে সে তাকে দিতেও পারে আবার নাও দিতে পারে। কেননা, নিচের হাত হতে উপরের হাত (দান গ্রহণকারীর চেয়ে প্রদানকারী) উত্তম। নিজের প্রতিপাল্যদের নিকট হতে (অর্থ ব্যয় ও দান-খয়রাত) শুরু কর। - সহীহ, ইরওয়া (৮৩৪), মুসলিম হাকীম ইবনু হিযাম, আবু সাঈদ আল-খুদরী, যুবাইর ইবনুল আওয়াম, আতিয়্যা আস-সা’দী, আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ, মাসউদ ইবনু আমর, ইবনু আব্বাস, সাওবান, যিয়াদ ইবনু হারিস আস-সুদাঈ, আনাস, হুবশী ইবনু জুনাদা, কাবীসা ইবনু মুখারিক, সামুরা ও ইবনু উমার (রাঃ) হতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা এ হাদীসটিকে হাসান, সহীহ গারীব বলেছেন। কায়িস (রাহঃ) হতে বায়ান (রাহঃ)-এর বর্ণিত হাদীসটিকে গারীব হাদীস বলে গণ্য করা হয়েছে।



Post a Comment

0 Comments