১৬৮৯। মূসা ইবন ইসমাঈল (র) ... আনাস (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন কুরআনের এই আয়াত – “তােমরা ততক্ষণ কল্যাণের অধিকারী হতে পারবে না যতক্ষণ না তােমরা তােমাদের মহব্বতের বস্তু খরচ কর” – তখন আবু তালহা (রা) বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার মনে হয় আমাদের রব আমাদের ধনসম্পদ চাচ্ছেন। আমি আপনাকে সাক্ষী রেখে আমার আরীহা নামক স্থানের যমীন তাঁর (আল্লাহ) জন্য দান করছি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম বলেন ঃ তুমি তা তােমার নিকটাত্মীয়দের মধ্যে বন্টন করে দাও। আবু তালহা (রা) তা হাসসান ইবন ছাবিত ও উবাই ইবন কাব (রা)-র মধ্যে বন্টন করে দেন – (নাসাঈ, মুসলিম, বুখারী)।
১৬৯১। মুহাম্মাদ ইবন কাছীর (র) ... আবু হুরায়রা (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম দান-খয়রাতের নির্দেশ দেন। তখন এক ব্যক্তি বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার নিকট একটি দীনার আছে। তিনি বলেন, তুমি তা তােমার | নিজের জন্য দান কর। অতঃপর সে বলে, আমার নিকট আরাে একটি দীনার) আছে। তিনি বলেন ঃ তুমি তা তােমার সন্তানদের জন্য দান কর। সে আবার বলে, আমার কাছে আরাে একটি দীনার আছে। তিনি বলেন ঃ তুমি তা তােমার স্ত্রীর জন্য সকা কর অথবা | (স্ত্রী হলে) স্বামীর জন্য সঙ্কা কর। সে বলে, আমার নিকট আরাে একটি দীনার আছে। তিনি বলেন, তুমি তা তােমার খাদেমদের জন্য সকা কর। সে আবার বলে, আমার কাছে আরাে একটি আছে। তিনি বলেনঃ তুমিই ভালাে জান (তা দিয়ে তােমার কি করা উচিৎ) - (নাসাঈ)।
১৬৯৪। মুসাদ্দাদ (র) ... আব্দুর রহমান ইবন আওফ (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি : আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন ঃ আমি ‘রহমান’, আর আত্মীয় সম্পর্ক হল “রাহেম'। আমি আমার নাম হতে তা | বের করেছি। কাজেই যে ব্যক্তি আত্মীয়ের সংগে সম্পর্ক অটুট রাখে, আমি তার নিকটবর্তী
হই। আর যে ব্যক্তি আত্মীয়তা ছিন্ন করে আমি আমার সম্পর্কও তার সাথে ছিন্ন করি - | (তিরমিযী, বুখারী, মুসলিম, নাসাঈ, আহমাদ)।
১৬৯৮। হাফস ইবন উমার (র) ... আবদুল্লাহ ইবন আমর (রা) হতে বর্ণিত। তিনি । বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম ভাষণ দিলেন। তাতে তিনি বলেন : তােমরা কৃপণতাকে ভয় কর। কেননা কৃপণতার কারণে তােমাদের পূর্ববর্তী লােকেরা ধ্বংস হয়েছে। তাদের লােভ-লালসা তাদেরকে কৃপণতার নির্দেশ দিয়েছে - তখন তারা কৃপণতা করেছে। আর তা তাদেরকে আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করতে বলেছে – তখন তারা তা ছিন্ন । করেছে। আর তা তাদেরকে লাম্পট্যের দিকে প্ররােচিত করেছে, তখন তারা তাতে লিপ্ত। হয়েছে – (নাসাঈ, আহমাদ)।
১৬৯৯। মুসাদ্দাদ (র) ... আসমা বিতে আবু বাকর (রা) বলেন, আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! যুবায়ের (তার স্বামী) তার ঘরে যে মাল আনেন তা ব্যতীত আমার কোন সম্পদ নাই। আমি কি তা হতে দান-খয়রাত করতে পারি? তিনি বলেন : হাঁ, তুমি তা হতে দান করবে এবং সম্পদ জমা করবে না। কেননা তুমি তা ধরে রাখলে তােমার রিযিকও। স্থগিত করে রাখা হবে - (তিরমিযী, নাসাঈ, বুখারী, মুসলিম)।
১৭০১। মুহাম্মাদ ইবন কাছীর (র) ... সুওয়ায়েদ ইবন গাফালা (রহ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন : আমি য়াযীদ ইবন সূহান ও সুলায়মান ইবন রাবীআর সাথে একত্রে যুদ্ধ করেছি। আমি পথিমধ্যে একটি চাবুক পেলাম। আমার সাথীদ্বয় আমাকে বলেন ? তা ফেলে দাও (কেননা তা অন্যের মাল)। আমি বললাম, না, যদি আমি এর মালিককে পাই (তবে তাকে এটী ফেরত দেব) অন্যথায় আমি নিজে তা ব্যবহার করব। রাবী বলেনঃ অতঃপর, আমি হজ্জ সমাপন করে মদীনায় উপনীত হই এবং এ সম্পর্কে) উবাই ইবন কাব (রা)-কে জিজ্ঞাসা করি। তিনি বলেন ঃ আমি একটি থলে পেয়েছিলাম - যার মধ্যে একশত ‘দীনার ছিল। আমি (তা নিয়ে) নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লামের খিদমতে হাজির হলে। তিনি বলেন ঃ তুমি এক বছর যাবত এ (প্রাপ্ত মাল) সম্পর্কে ঘােষণা দিতে থাক। আমি পূর্ণ এক বছর ঘােষণা দেওয়ার পর তাঁর নিকট উপস্থিত হই। তিনি আরাে এক বছরের জন্য ঘােষণা দিতে বলেন। আরাে এক বছর ঘােষণা দেওয়ার পর পুনরায় তাঁর খিদমতে হাযির হলে তিনি আরাে এক (তৃতীয়) বছরের জন্য ঘােষণা দিতে নির্দেশ দেন। আমি আরাে এক
বছর ঘােষণা দিতে থাকি। অতঃপর তাঁর নিকট উপস্থিত হয়ে বলি, আমি এর মালিকের কোন সন্ধান পাইনি। তিনি বলেনঃ এর সংখ্যা নিরূপণ কর এবং এর থলি ও মুখ বাঁধার রশি হেফাযত কর। এমতাবস্থায় যদি এর মালিক আসে (তবে তাকে তা দিয়ে দিবে)। আর যদি সে না আসে, তবে তুমি তা কাজে লাগাবে। রাবী (শােবা) বলেনঃ “এর ঘােষণা দিতে থাক” কথাটি তিনি (সালামা) তিন বার না একবার বলেছেন – তা আমার মনে নেই = (বুখারী, মুসলিম, নাসাঈ, তিরমিযী)।
১৭০৮। মূসা ইবন ইসমাঈল (র) ... ইয়াহইয়া ইন সাঈদ ও রাবীআ (র) রাবী কুতায়বা বর্ণিত হাদীছের সনদ ও বিষয়বস্তুর অনুরূপ হাদীছ বর্ণনা করেছেন। তবে এতে আরও বর্ণনা করেছেন ঃ যদি এর অনুসন্ধানকারী (মালিক) এসে যায় এবং এর থলি ও পরিমাণ সম্পর্কে ঠিকভাবে বলতে পারে তবে তা তাকে ফেরত দিবে।
রাবী হাম্মাদ ও উবায়দুল্লাহ ইবন উমার হতে, তিনি আমর ইবন শুআয়েব হতে, তিনি পর্যায়ক্রমে তার পিতা এবং দাদার সূত্রে, তিনি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম হতে পূর্বোক্ত হাদীছের অনুরূপ ••• |
ইমাম আবু দাউদ (রহ) বলেনঃ রাবী হাম্মাদ ইবন সালমা, সালামা ইন কুহায়েল, ইয়াহইয়া ইবন সাঈদ ও উবায়দুল্লাহ ইবন উমারের হাদীছের মধ্যে যা অতিরিক্ত বর্ণনা করছেন তা হল ঃ যদি এর মালিক এসে যায় এবং সে তার থলি ও মুখবন্ধনী চিনতে পারে। আর রাবী উকবা ইবন সুওয়ায়েদ, যিনি তাঁর পিতার সূত্রে এবং তিনি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম হতে, একইরূপ বর্ণনা করেছেনঃ “এক বছর যাবত ঐ প্রাপ্ত মাল সম্পর্কে ঘােষণা দিতে থাকবে।” আর হযরত উমার ইবনুল খাত্তাব (রা)-ও নবী করীম। সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম হতে যে হাদীছ বর্ণনা করেছেন তাতে আছে ঃ “ঐ প্রাপ্ত মাল সম্পর্কে এক বছর যাবত ঘােষণা দিতে থাকবে।”
১৭১০। কুতায়বা ইবন সাঈদ (র) ... আবদুল্লাহ ইবন আমর ইবনুল আস (রা) হতে । বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লামকে বৃক্ষে ঝুলন্ত ফল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা। হলে তিনি বলেনঃ যদি কেউ তা খায় এবং সে যদি অভাবী হয়, আর সে তা লুকিয়ে না নেয় | তবে এজন্য তার কোন গুনাহ নাই। আর যদি কেউ তা লুকিয়ে নিয়ে যায়। তবে জরিমানাস্বরূপ তার নিকট হতে দ্বিগুণ আদায় করা হবে এবং উপরােক্ত শাস্তি ভােগ করতে হবে। আর যদি কেউ খেজুর চুরি করে – এমতাবস্থায় যে, তা বৃক্ষ হতে কেটে খলিয়ানে শুকাতে দেওয়া হয়েছে এবং ঐ চুরিকৃত খেজুরের মূল্য একটি বর্মের মূল্যের সম পরিমাণ হয় তবে তার হাত কাটা যাবে। অতঃপর তিনি (আবদুল্লাহ ইবন আমর) হারানাে প্রাপ্ত | বকরী ও উটের কথা বর্ণনা করেছেন, যেমন অন্য রাবী (যায়েদ ইবন খালিদ) বর্ণনা।
করেছেন। অতঃপর তাঁকে (স) লুকতা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন : যা কিছু। | জনসাধারণের চলাচলের রাস্তায় বা জনপদে পাওয়া যায় – সে সম্পর্কে এক বছর যাবত ঘােষণা দিতে হবে। যদি এর মালিক এসে যায় তবে তা তাকে প্রদান করতে হবে। আর যদি
আসে তবে তা তােমার জন্য। আর যে লুকতা জনপদের বাইরে এবং যমীনের মধ্যে যে । গুপ্তধন পাওয়া যাবে, তার যাকাত হল এক-পঞ্চমাংশ - (তিরমিযী, নাসাঈ, ইবন মাজা)।
১৭১৪। মুহাম্মাদ ইবনুল আলা (র) . আবু সাঈদ (রা) হতে বর্ণিত। আলী ইবন আবু | তালিব (রা) পথিমধ্যে পতিত কিছু দীনার পান। তিনি তা হযরত ফাতিমা (রা)-র নিকট নিয়ে এলে তিনি সেই সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করেন। তিনি বলেন ঃ তা আল্লাহ প্রদত্ত রিযিক। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম তা দ্বারা খাদ্যদ্রব্য কিনিয়া ভক্ষণ করেন এবং আলী (রা) ও হযরত ফাতিমা (রা)-ও ভক্ষণ করেন। এর কিছু পর এক মহিলা আগমন করে, যে হারানাে দীনার অনুসন্ধান করছিল।
তখন নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম বলেন ঃ হে আলী। তুমি তার দীনার | পরিশােধ কর।'
১৭১৬। জাফর ইবন মুসাফির (র) ... সাহল ইবন সাদ (রা) হতে বর্ণিত। আলী ইন আবু তালিব (রা) ফাতিমা (রা)-র নিকট উপস্থিত হয়ে হাসান ও হুসায়েন (রা)-কে ক্রন্দনরত দেখতে পান। তিনি তাদের কান্নার কারণ জিজ্ঞাসা করেন। ফাতিমা (রা) বলেন, তাঁরা ক্ষুধায় অস্থির হয়ে কাঁদছে। আলী (রা) ঘর হতে বের হয়ে যান এবং বাজারে একটি দীনার পতিতাবস্থায় পান। তিনি তা ফাতিমা (রা)-র নিকট নিয়ে আসেন এবং তাঁকে এ সম্পর্কে অবহিত করেন। তিনি (ফাতিমা) বলেন, এটা নিয়ে আপনি অমুক য়াহূদীর নিকট যান এবং আমাদের জন্য কিছু আটা খরিদ করে আনুন। অতঃপর তিনি (আলী) উক্ত য়াহূদীর নিকট গিয়ে তা দিয়ে আটা খরিদ করেন। ঐ য়াহূদী বলে আপনি তাে ঐ ব্যক্তির জামাতা – যিনি বলেন যে, তিনি আল্লাহর রাসূল”। আলী (রা) বলেনঃ হাঁ। তখন য়াহূদী বলে, আপনি আপনার দীনার ফেরত নেন, আর এই আটাও (বিনা মূল্যে) নিয়ে যান। অতঃপর আলী (রা) তা নিয়ে ফাতিমা (রা)-র নিকট ফিরে এসে তাঁকে বিষয়টি অবহিত করেন। ফাতিমা (রা) আলী (রা)-কে বলেন, আপনি এখন অমুক কসাইয়ের নিকট যান এবং আমাদের জন্য এক দিরহামের গােশত খরিদ করে আনুন। তখন তিনি গমন করেন। এবং দীনারটি বন্ধক রেখে এক দিরহাম মূল্যের গােশত খরিদ করেন। অতঃপর তিনি তা নিয়ে গৃহে প্রত্যাবর্তন করেন। ফাতিমা (রা) আটার রুটি তৈরী করেন এবং গােশত পাকানাের জন্য চুলার উপর হাঁড়ি বসান এবং নবী করীম (স)-কে খবর দেন। তিনি (স) তাঁদের নিকট আগমন করেন। ফাতিমা (রা) বলেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ! এখন আমি আপনার নিকট
দীনারের ঘটনা ব্যক্ত করব। যদি আপনি তা আমাদের জন্য হালাল মনে করেন, তবে আমরা তা ভােগ করব এবং আমাদের সাথে আপনিও তা খাবেন। আর ব্যাপার এইরূপ। সবকিছু শ্রবণের পর তিনি বলেনঃ তােমরা সকলে তা “বিসমিল্লাহ” বলে ভক্ষণ কর। তাঁরা সকলে তা আহার করছিলেন, এমন সময় এক যুবক আল্লাহ ও ইসলামের নামে শপথ উচ্চারণ পূর্বক দীনারের অন্বেষণ করছিল। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম তাকে ডাকার নির্দেশ দেন এবং তাকে ঐ দীনার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন। সে বলে, তা আমার নিকট হতে বাজারে হারিয়ে গিয়েছে। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম বলেন, হেআলী! তুমি ঐ কসাইয়ের নিকট যাও এবং তাকে বল, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম আপনাকে দীনারটি আমার নিকট ফেরত দিতে বলেছেন এবং আপনার দিরহাম তিনি দেবেন। কসাই ঐ দীনারটি ফেরত দেয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম তা ঐ যুবককে ফেরত দেন।
৪৯৮। আৰ্বাদ ইবন মূসা- আবু উমায়ের ইবন আনাস থেকে কোন একজন আনসার সাহাবীর
সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম এজন্য চিন্তিত ও অস্থির হয়ে পড়েন যে, লােকদেরকে নামাযের জন্য কিরূপে একত্রিত করা যায়। কেউ কেউ পরামর্শ দেন যে, নামাযের সময় হলে ঝান্ডা উড়িয়ে দেওয়া হােক। যখন লােকেরা তা দেখবে তখন একে অন্যকে নামাযের জন্য ডেকে আনবে। কিন্তু তা নবী করীম (স)-এর মনপূতঃ হয়নি। অতঃপর কেউ এরূপ প্রস্তাব করে যে, শিংগা ফুকা হােক। যিয়াদ বলেন, শিংগা ছিল ইহুদীদের ধর্মীয় প্রতীক। কাজেই রাসূলুল্লাহ (স) তা অপছন্দ করেন। রাবী বলেন, অতঃপর একজন নাকুস’ ব্যবহারের পরামর্শ দেন। রাবী বলেন, উপাসনার সময় ঘন্টাধ্বনি করা ছিল নাসারাদের রীতি। এজন্য নবী করীম (স) তাও অপছন্দ করেন। অতঃপর কোন সিদ্ধান্ত ছাড়াই সেদিনের বৈঠক শেষ হয় এবং সকলে নিজ নিজ আবাসে ফিরে যায়। আবদুল্লাহ ইবন যায়েদ (রা)-ও রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম চিন্তিত থাকার কারণে ব্যথিত হৃদয়ে স্বগৃহে প্রত্যাবর্তন করেন। অতঃপর তাঁকে স্বপ্নের মাধ্যমে আযানের নিয়ম শিক্ষা দেয়া হয়। বর্ণনাকারী বলেন, পরদিন ভােরে তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লামের খিদমতে হাযির হয়ে বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমি তন্দ্রাচ্ছন্ন অবস্থায় ছিলাম। এমন সময় এক ব্যক্তি (ফেরেশতা) আমার নিকট এসে আমাকে আযান দেয়ার পদ্ধতি শিখিয়ে দিয়েছে। রাবী বলেন, হযরত উমার ইবনুল খাত্তাব (রা) ইতিপূর্বে ঠিক একই রকম স্বপ্ন দেখেছিলেন। কিন্তু তিনি তা বিশ দিন পর্যন্ত প্রকাশ না করে গােপন রাখেন। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর তিনি তা নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লামের খিদমতে প্রকাশ করেন। তখন নবী করীম (স) তাঁকে (উমারকে) বলেনঃ এ সম্পর্কে পূর্বে আমাকে জ্ঞাত করতে তােমায় কিসে বাধা দিয়েছিল? উমার (রা) লজ্জা বিনম্র কণ্ঠে বলেন, আবদুল্লাহ ইবন যায়েদ (রা) এ ব্যাপারে অগ্রবর্তীর ভুমিকা পালন করেছেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম বিলাল (রা)-কে নির্দেশ দেনঃ উঠ এবং আবদুল্লাহ ইবন যায়েদ | যেরূপ বলে- তুমিও তদ্রুপ (উচ্চ কন্ঠে) বল! এইরূপে বিলাল (রা) ইসলামের সর্বপ্রথম আযান
ধ্বনি উচ্চারণ করেন। আবু বিশর বলেন, আবু উমায়ের আমাকে এরূপ বলেছেন যে, সম্ভবতঃ যদি এ সময় হযরত আবদুল্লাহ ইবন যায়েদ (রা) রােগগ্রস্ত না থাকতেন তবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম তাঁকেই মুআযযিন নিযুক্ত করতেন।
৫৮৯। মুসাদ্দাদ- মালিক ইবনুল হুয়ায়রিছ (রা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়া সাল্লাম তাঁকে অথবা তাঁর সাথীকে বলেনঃ নামাযের সময় উপস্থিত হলে- আযান ও ইকামতের পর তােমাদের মধ্যেকার বয়স্ক ব্যক্তি নামাযে ইমামতি করবে। রাবী মাসলামার হাদীছে উল্লেখ আছে যে, ঐ সময় আমরা সকলেই প্রায় সমান ইলমের অধিকারী ছিলাম। ইসমাঈল হতে বর্ণিত হাদীছে উল্লেখ আছে যে, রাবী খালিদ বলেন, তখন আমি আবু কিলাবকে বলি, 'কুরআনে অধিক অভিজ্ঞ’ এ শব্দটি কেন উল্লেখ করা হয় নাই? তিনি বলেন, মালিক ও তাঁর সাথী উভয়ই কুরআনে সম-জ্ঞানের অধিকারী থাকায় রাসূলুল্লাহ (স) কুরআনের কথা এখানে উল্লেখ করেন নাই (বরং বয়সের কথা বলেছেন)।
0 Comments